যতিচিহ্ন

যতিচিহ্ন
Published:
January 2013 by আনন্দ পাবলিশার্স
Goodreads Rating:
3.33
Language

কৃষ্ণেন্দু মুখোপাধ্যায়ের ‘যতিচিহ্ন’ উপন্যাসে কাহিনিই প্রধান, কিন্তু গল্পের সাবলীল গতি, অনেকগুলি সুতো শুরুতে ছড়িয়ে রেখে শেষে জাল গুটিয়ে নেওয়ার মুনশিয়ানা, চরিত্রচিত্রণ আলাদাভাবে চোখে পড়ে। উপন্যাসের গোড়ায় বলা আটটি আপাতবিচ্ছিন্ন ঘটনাক্রম একে-একে মেশে ডায়মন্ড হারবারে সদ্য গড়ে ওঠা এক রিসর্টে এসে। তবে কেন্দ্রীয় চরিত্রের মতো কেন্দ্রীয় কোনও কাহিনিও নেই ‘যতিচিহ্ন’তে, যা আছে, সেখানে খানিক প্রাচীন ধারণা অনুযায়ী দেখানো হয় শুভর জয়, অশুভর হার! সেকারণেই সম্ভবত নেপথ্যে উপস্থিত থাকে দুর্গাপুজো, শারদ আবহ। তাই আইটেম গানে শরীর প্রদর্শন করে নেচে যে-রুক্মিণী মুচমুচে গোপন খবরের শিরোনামে, তার সঙ্গে মিলে যায় একখালি গাঁয়ের কাঁসর বাজিয়ে ল্যাংড়া পুতু, তাই সাংবাদিক শুভব্রত আকস্মিকভাবেই আবিষ্কার করে ফেলেন ঘরের এসি-র আড়ালে লুকিয়ে রাখা স্পাইক্যাম (পাঠক আগেই জানতেন, স্পাইক্যাম রয়েছে বাথরুমের গিজ়ারগুলিতেও), ভেস্তে যায় প্রতীক নন্দীর মতলব। রিসর্টের রিসেপশনিস্ট ঝুমাকে লেখক কখনও মিলিয়েছেন দুর্গার সঙ্গে, তাই তার মুখেই শোনা যায়, “যদি সত্‌ থাকিস, মেয়েদের অনেক শক্তি। মা দুর্গা তোকে শক্তি জোগাবেন!” যদিও কোনও দেবীত্ব আরোপিত হয় না তার চরিত্রে।